Skip to content

Tetul Bone Jochna Pdf Download – তেঁতুল বনে জোছনা

পোস্টটি যদি একটু হলেও ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়াকরে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি লাইক দিন।

Tetul bone Jochna PDF Download

তেঁতুল বনে জোছনা – হুমায়ূন আহমেদ

তেঁতুল বনে জোছনা বাংলাদেশী লেখক হুমায়ূন আহমেদের একটি উপন্যাস এটি ২০০১ সালে প্রকাশিত ২০০১ সালে প্রথম প্রকাশিত এই উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিরাটনগর গ্রাম। তাই দেরি না করে নিচের ডাউনলোড বাটনটিতে ক্লিক করে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে পড়া শুরু করে দিন।

মাঝে মাঝে আমার খুব কবিতা লিখতে ইচ্ছা করে। তখন কাগজ কলম নিয়ে বসি এবং খুব আয়োজন করে কবিতার একটা নাম ঠিক করি। ব্যাস এই পর্যন্তই! কবিতার শিরোনাম লেখা হয় কিন্তু কবিতা আর লেখা হয় না। বুদ্ধিমান পাঠক আশা করি এর মধ্যেই ধরে ফেলেছেন যে ‘তেতুল বনে জোছনা’ আসলে আমার একটা কবিতার নাম। যে কবিতা লেখা হয়নি এবং কখনো লেখা হবে না। কেউ যদি প্রশ্ন করেন –“এই নামের অর্থ কি? তেতুল বনে জোছনা কি আলাদা কিছু?” তাহলে আমি বিপদে পড়ে যাব। আসলেইতো এর কোনো অর্থ কি আছে? প্রশ্নটাকে এখন আরেকটু ছড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করছে – চাঁদের আলোর অর্থ কি? বর্ষার মেঘমালার অর্থ কি? যে অনন্ত নক্ষত্রবীথি আমাদের ঘিরে রেখেছে তার অর্থ কি? আচ্ছা আমরা কি অর্থহীন একটা জগতে বাস করে জীবনে অর্থ অনুসন্ধান করছি না? কেন করছি?

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার জনপ্রিয় উপন্যাস ‘তেতুল বনে জোছনা’র নামকরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এ কথাগুলো বলেছিলেন।

এই উপন্যাসের কিছু অংশ

সন্ধ্যা তখনো মিলায় নি।
আকাশ মেঘশূন্য, পরিষ্কার। হঠাৎ কী যেন হয়ে গেল। প্রথমে কয়েকবার কামানদাগার মতো গুম গুম শব্দ, তারপর কাক ডাকতে শুরু করল। গাছের সব পাখি এক সঙ্গে আকাশে উড়ে গেল। এর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্ৰচণ্ড ঝড় বয়ে গেল বিরাটনগর গ্রামের ওপর দিয়ে। ঝড়ের স্থায়িত্ব দু’তিন মিনিট–এর মধ্যেই গ্ৰাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। প্রকৃতি নানান রকম খেলা খেলে। সে বিরাটনগর নিয়ে মজার কোনো খেলা খেলল। এই খেলার উদ্দেশ্য মানুষকে ভয় দেখানো না–বিস্মিত করা। যে কারণে কালিমন্দিরের সঙ্গে লাগোয়া পাঁচ শ’ বছরের পুরনো বট গাছ উড়িয়ে নিয়ে চলে গেল অথচ তার পাশেই রাইসুদিনের খড়ের চালা স্পর্শও করল না।
রাইসুদ্দিন উঠোনে ধান সিদ্ধ দিচ্ছিল। সে চোখ বড় বড় করে দেখল তার মাথার ওপর দিয়ে বট গাছ উড়ে যাচ্ছে। গাছ না, যেন পাখি। শান্ত ভঙ্গিতে উড়ছে।
গ্রামের একটা মানুষও মারা পড়ল না–কিন্তু শত শত পাখি মারা পড়ল। বিরাটনগরের সব ক’টা পুকুরের মাছ এক সঙ্গে ভেসে উঠল। মরে ভেসে ওঠা না, জীবিত অবস্থায় ভেসে ওঠা। যেন দেখতে এসেছে–ঘটনা কী? ঝড় থেমে যাবার পরও সেইসব মাছ ড়ুবল না, ভেসেই রইল। প্রকৃতির এই খেলা দেখে মাছেরাও যেন অভিভূত। বিরাটনগরের মানুষজনের প্রাথমিক ধাক্কা কাটতেই তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ল মাছ মারার সরঞ্জামের খোঁজে। অদ্ভুত ঘটনার ব্যাখ্যা পরে খোজা যাবে–আপাতত মাছ মারা যাক। বিরাটনগরে শুরু হলো মাছ মারা উৎসব।
আজকের মাছ মারা অন্যদিনের মতো না। খালি হাতে পুকুরে নেমে পড়লেই হবে। মাছগুলোর স্বভাবে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এদের গায়ে হাত রাখার পরও এরা নড়ছে না। পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছে না।
মতি মিয়া বড় বাড়ির পুকুরের সামনে কিছুক্ষণ গালে হাত দিয়ে বসে রইল। তার মাথা ঝিম বিষ্কাম করছে, এ-কী কাণ্ড! বাপের জন্মে সে এমন জিনিস দেখে নাই। লোকগুলোর কাণ্ড দেখেও সে বিস্মিত–কতবড় একটা ঘটনা ঘটেছে, এটা নিয়ে তোরা চিন্তা কর। মাছ মারা বড় হয়ে গেল? কে জানে। হয়তো কেয়ামত শুরু হয়েছে। আছরের ওয়াক্তে কেয়ামত হওয়ার কথা। ঘটনাটা তো বলতে গেলে আছর ওয়াক্তেই ঘটেছে। এই সময় সূর্য পশ্চিম দিকে ড়ুবতে গিয়েও ড়ুববে না। উল্টা দিকে ঘোরা শুরু করবে। আর কোনোদিন মাগরেবের ওয়াক্ত আসবে না। মূর্খ গ্রামবাসী মাছ মারা বন্ধ করে সূর্যের দিকে তাকিয়ে দেখ ঠিকমতো ড়ুবে কি ড়ুবে না। সূর্য না ড়ুবলে খবর আছে।
মতি পুকুর পাড় থেকে ওঠে গেল। তার বুক ধড়ফড় করছে। বড়ই অশান্তি লাগছে। ঝড়ের সময় কী কী ঘটনা ঘটেছে ভালোমতো জানা দরকার। জুম্মাঘরের টিউবকল থেকে লাল পানি বের হচ্ছে বলে শুনেছে–এটাও দেখা দরকার। কালিমন্দিরের বটগাছ উপড়ে কোথায় নিয়ে ফেলেছে–এই খোঁজটা বের করতে হবে। এতবড় একটা বটগাছ উড়ে আর কতদূর যাবে? খলপাড়ের সুলেমান নাকি আল্লাহর নামে কীরা কেটে বলেছে–বটগাছ যখন উড়িয়ে নিয়ে যায়। তখন বটগাছে তরুণী একটা মেয়ে পা ভাজ করে বসে ছিল। মেয়েটার গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। তার জন্য মেয়েটার কোনো লজ্জা শরমও ছিল না। মুখে ছিল হাসি। সুলেমানের কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। কিছু কিছু লোকের জন্মই হয়েছে মিথ্যা কথা বলার জন্যে। সুলেমান তাদের একজন। তারপরেও সে কী বলতে চায় এটা শোনা দরকার। কঠিন মিথ্যাবাদীও মনের ভুলে দুএকটা সত্য কথা বলে ফেলে। কে জানে সুলেমানের এই কথাটা হয়তো সত্যি।
মারা পাখিগুলো দেখে মতির খুব মায়া লাগছে। ঝড় তুফানের খবর পাখিরা আগে পায়। পাখিদের উচিত ছিল উড়ে পাশের যে-কোনো একটা গ্রামে চলে যাওয়া। পাশের গ্রামগুলোতে কিছুই হয় নি। গাছের একটা পাতাও নড়ে নি। এটাও একটা আচানক ঘটনা। মতি একটা মরা ডাহুক পাখির পাশে বসে পড়ল। ডাহুক পাখির মাংস অতি স্বাদু। ঝড়ে যে পাখি মারা গেছে তার মাংস খাওয়া ঠিক কি-না কে জানে? মরা মাছ খাওয়া যায়, কিন্তু মরা পাখি কি খাওয়া যায়? যে-কোনো পাখি মরার সময় পা দুটা আকাশের দিকে তুলে রাখে। এটাই নিয়ম। কিন্তু এই পাখিগুলো কুঁকড়ে মুকড়ে পড়ে আছে।
নিয়মমতো মরতেও পারে নাই। এটাও একটা আফসোস।
মতি, কী কর?
বিরাটনগর কম্যুনিটি হেলথ কমপ্লেক্সের ডাক্তার সাহেব সাইকেল হাতে ধরে হেঁটে হেঁটে আসছেন। ডাক্তার সাহেবকে দেখে মতির বুক ধড়াস করে উঠল। গলা খানিকটা শুকিয়ে গেল। এমিতে এই ডাক্তার অতি ভালো মানুষ। অতি সজ্জন। নিজ থেকে আগবাড়িয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে। ডাক্তার হিসেবে এক নম্বরেরও ওপরে। কোনো রোগীর বাড়িতে গিয়ে একবার শুধু যদি সাইকেলের ঘণ্টা দেয় তাহলেই ঘটনা ঘটে যায়। ঘন্টার শব্দ শুনে রুগি বিছানায় উঠে বসে বলে, মুরগির সালুন দিয়ে ভাত খাব। আগের যে দু’জন ডাক্তার ছিল তারা দু’জনই ছিল খচ্চর ধরনের। এর মধ্যে দ্বিতীয় জন ছিল খচ্চরেরও নিচে। তাকে সালাম দিলে সালামও নিত না। সালামের জবাবে মাটির দিকে তাকিয়ে ঘোঁৎ করে একটা শব্দ করত। মানুষ হয়ে জন্তুর মতো শব্দ করবে। কেন? তুই কি জন্তু?
বর্তমান ডাক্তার সাহেবের নাম আনিসুর রহমান ঠাকুর। মুসলমানের নামের শেষে ঠাকুর থাকবে কেন এটা জিজ্ঞেস করা দরকার। মতি ঠিক করে রেখেছে কোনো এক সময় জিজ্ঞেস করবে। এই ডাক্তার সাহেব এত ভালো যে মতি নিশ্চিত ইনি বেশি দিন বিরাটনগরে থাকবেন না। বিরাটনগর এমন একটা জায়গা যেখানে ভালো মানুষ বেশিদিন টিকে না। ডাক্তার সাহেব অতিরিক্ত ভালো মানুষ। এমন ভালো মানুষকে দেখে কারোরই বুক ধড়াস করার কথা না–কিন্তু মতির বুক কাঁপছে। কারণ, সে গত বুধবার সন্ধ্যাকালে ডাক্তার সাহেবের দুটা শার্ট আর একটা লুঙ্গি চুরি করেছে। ডাক্তার সাহেবের কাজের ছেলে সুজাত মিয়া কাপড় ধুয়ে রোদে শুকাতে দিয়েছিল। সন্ধ্যা পার হবার পরেও সেই বদছেলে কাপড় ঘরে তুলল না। কাজেই মতি কাপড় ভাঁজ করে তার চাদরের নিচে নিয়ে নিল। কাজটা অন্যায়। আবার ঠিক অন্যায়ও না। কাপড় মতি না নিলে অন্য কেউ নিয়ে নিত। বিরাটনগর চোরের জায়গা। সমস্যা হলো ডাক্তার সাহেবের কাপড় এখন পরা যাবে না। দেখেই সবাই চিনে ফেলবে। ডাক্তার সাহেব বদলি হয়ে গেলে সে পরবে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে বলবে, ডাক্তার সাহেব যাবার সময় পেয়ার করে তাকে দিয়ে গেছেন। অবিশ্বাস করার মতো কথা না। ডাক্তার সাহেবের অন্তরে মায়া মহব্বত আছে। পেয়ার করে তিনি মতিকে নিজের কিছু ব্যবহারী কাপড় দিতেই পারেন। ডাক্তার সাহেবের দ্রুত বদলি হয়ে যাওয়াটা মতির জন্যে মঙ্গলজনক।
মতি হাত কচলে খুবই বিনীত ভঙ্গিতে বলল, ডাক্তার সােব কেমন আছেন
ভালো আছি।
কেমন প্ৰলয় ঘটনা ঘটেছে দেখলেন? আর একটু হলে কিয়ামত হয়ে যেত।
হুঁ।
বাপের জন্মে এই জিনিস দেখি নাই। বটগাছ উড়ায়ে নিয়ে গেছে। বটগাছের কাছে ইয়াছিন মিয়া বইস্যা হুক্কা টানতেছিল। তার কল্কির আগুন পর্যন্ত নিভে নাই। সে এমন ভয় খাইছে। কাপড় নষ্ট করে ফেলেছে। ছোট নষ্ট না, বড় নষ্ট। লুঙ্গি বরবাদ কেমন আচানক ঘটনা বলেন দেখি?
খুব আচানক না। টর্নেডোতে এমন হয়।
কী কন আপনে?
টর্নেডোর ঠিক মাঝখানে থাকে। টর্নেডোর চোখ। এই চোখ যে সব জায়গা দিয়ে যায় তার ব্যাপক ক্ষতি করে। কিন্তু আশেপাশে তেমন কিছু হয় না।
পুস্কুনির সব মাছ ভাইস্যা উঠছে–খবর পাইছেন?
সেটাই দেখতে এসেছিলাম। ইন্টারেষ্টিং তো বটেই। এই জিনিস। আমি নিজেও আগে কখনো দেখি নি।
মতি গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল, এটা আর কিছু না। এটা আল্লাপাকের ঘণ্টা। আল্লাপাক ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি দিয়া আমাদের বলেছেন–বান্দা, সাবধান হও।
আনিস কিছু বলল না। সাইকেল টেনে এগুতে লাগল। তার পেছনে পেছনে আসছে মতি। এটা মোটামুটি একটা দুর্ঘটনা। মতি কথা না বলে থাকতে পারে না। হড়বড় করে কথা সে বলতেই থাকবে। মতির বয়স ত্ৰিশ। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা। বিরাটনগরে তার একটা চালাঘর আছে। তবু রাতে সে ঘুমায় নান্দাইল রোড ইষ্টিশনে। একই সঙ্গে সে নানান কাজকর্ম করে, আবার কিছুই করে না। মাঝে মধ্যে কুলির কাজ করে। যাত্রীদের মালামাল নামায়। কিছুদিন গ্রামে এসে থাকে। ঘরামীর কাজ করে। শীতের সিজনে মুড়ি লাড়ু বানিয়ে ট্রেনে করে বিক্রি করতে চলে যায়–গৌরীপুরমোহনগঞ্জ। কিছুদিন হলো–সে জুরের একটা বড়ি বানানোর চেষ্টা করছে। লালু ফকিরের কাছ থেকে ফর্মুলা জোগাড় হয়েছে। ফর্মুলা মতো বড়ি বানিয়ে রোদে শুকাতে দেবার সময় গণ্ডগোলটা হচ্ছে। একটু শুকালেই বড়ি পাউডারের মতো হয়ে যাচ্ছে। বড়ির নামও মোটামুটি ঠিক করা–
‘জ্বরমতি’
নিজের নামটা কায়দা করে বড়ির নামের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া। যতদিন এই বাড়ি থাকবে ততদিন মতির নামও থাকবে। এটা কম কথা না।
বড়ি বানানো হয়ে গেলে হ্যান্ডবিল ছাপিয়ে গৌরীপুর, নেত্রকোনা, শ্যামগঞ্জ এই লাইনে বিক্রি করতে হবে। এই অঞ্চলের লোকদের পেটের ব্যথা বেশি– ট্যাবলেটে চোখের নিমিষে উড়ে যাবে। বিজ্ঞাপনের ভাষাও মোটামুটি ঠিকঠাক–
আসিয়াছে! আসিয়াছে!!
জ্বর নাশক ‘জ্বরমতি’ বাড়ি।
এক বড়ি যেমন তেমন
দুই বাড়িতে কাম
ভাই ব্রোদার শুনেন শুনেন
জ্বরমতির নাম।
এই বড়ি স্বপ্নে প্রাপ্ত। বড়ির ক্রয় বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
শুধু হাদিয়া বাবদ পাঁচ টাকা।
বড়ি সেবনের পরের সাত দিন গোমাংস ভক্ষণ এবং
স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
গ্যারেন্টিসহ চিকিৎসা। বিফলে সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত।
মতির ইচ্ছা বড়ির বিষয়টা নিয়ে ডাক্তার সাহেবের সাথে কথা বলে। ডাক্তার সাহেব অতি জ্ঞানী মানুষ, তিনি সমস্যার সমাধান জানবেন। বড়িগুলো পাউডার হয়ে যাচ্ছে কেন এটা তিনি কি আর জানবেন না। ডাক্তার মানুষ তাদের কাজ কারবার হলো বড়ি নিয়ে।
ডাক্তার সাব।
হুঁ।
মতি চিন্তিত মুখে ডাক্তার সাহেবের দিকে তাকাল। সে সামান্য হতাশ বোধ করছে। ডাক্তার সাহেব হুঁ বলা শুরু করেছেন। ডাক্তার সাহেবের এই এক অভ্যাস। একবার হুঁ বলা শুরু করলে–হুঁ বলতেই থাকেন। যাই জিজ্ঞেস করা হোক, উত্তর একটাই– হুঁ।
বড়ই আচানক ঝড় হয়েছে। কি বলেন?
হুঁ।
পাখি মারা পড়েছে বেশুমার। সব ধরনের পাখি মারা পড়েছে। এর মধ্যে একটা ডাহুক পাখিও দেখলাম।
হুঁ।
ডাহুক পাখির মাংস অতি স্বাদু।
হুঁ।
আপনি ডাহুক পাখির মাংস কোনোদিন খেয়েছেন?
না। খাই নি।
মতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। ডাক্তার সাহেব হুঁ বলা বন্ধ করেছেন। এখন হয়তো কিছু কথাবার্তা বলবেন।
ডাহুক পাখি। বছরে একদিন অন্ধ হয়ে যায়–এটা জানেন?
না।
খুবই আচানক ঘটনা। বছরে একদিন ডাহুক পাখি চোখে দেখে না। ডাহুক পাখি ধরার এই একটাই সুযোগ। ঐ দিনেই ধরা হয়।
ডাক্তার কৌতূহল চোখে তাকাল। একটি বিশেষ শ্রেণীর পাখি বৎসরে একদিন চোখে দেখে না–এটাতো বিস্ময়কর ঘটনা। ঘটনার পেছনে কি সত্যতা আছে? না-কি এটিও অনেক লোকজ বিশ্বাসের মতো একটি অপরীক্ষিত লোকজ বিশ্বাস?
ডাক্তার সাব।
বল।
ঝড়ে যেসব পাখি মারা গেছে সেইগুলা খাওয়া কি জায়েজ আছে?
তোমার কথা বুঝতে পারছি না।
ধরেন একটা ডাহুক পাখি গাছের আগায় বসে আছে। ছররা গুলি দিয়া তারে মারলাম। এই পাখি খাওয়া জায়েজ আছে। আবার ধরেন ঝড়ে পাখিটা মারা গেলে–সেটা খাওয়া কি জায়েজ আছে?
আমি বলতে পারছি না। তবে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।
খাবেন?
ডাক্তার বিস্মিত হয়ে বলল, কী খাব?
মতি ইতস্তত করে বলল, বাঁশ ঝাড়ের নিচে একটা ডাহুক পাখি মরে পড়ে আছে। বেশি করে পিয়াজ রসুন দিয়ে ঝালকাল করে রোধে নিয়ে আসি? খান। আপনে ডাহুক পাখির মাংস খান নাই। খেলে মজা পাবেন। পাখির মাংস শক্ত হয়। ডাহুক পাখির মাংস মোলায়েম। হাড্ডি সুন্দা মুখের মধ্যে গলে যায়। যদি খান–ব্যবস্থা করি।
না। ডাহুক পাখি খাব না।
আমার কথায় রাগ হয়েছেন?
না, রাগ হই নি। রাগ হব কেন?
রাগ হয়ে থাকলে নিজগুণে ক্ষমা করবেন। এতবড় একটা বড় নিজের চউক্ষে দেখার পর থাইক্যা মাথা ঠিক নাই। কী বলতে কী বলি।

সম্পূর্ণ উপন্যাসটি পড়তে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করুন।

1 thought on “Tetul Bone Jochna Pdf Download – তেঁতুল বনে জোছনা”

Leave a Reply

Your email address will not be published.