দোদুল্যমান – শামসুর রাহমান সে বসেছিল তার প্রশস্ত বারান্দায় শরীরে যৌবনের গোধূলি নিয়ে। আমি, বার্ধক্যের দোরগোড়া-পেরুনো, তার মুখোমুখি অন্ধকারের ডানার রেশমি ছায়ায়। একটি ক্লান্ত পাখির ডানা ঝাড়ার শব্দে চিড় ধরে নিস্তব্ধতায়, হঠাৎ এক সময় মনে হলো, সে নেই এই সন্ধ্যাময়... Read more
দেহতত্ত্ব – শামসুর রাহমান কখনো নিইনি কোনো গুরুর নিকট দীক্ষা, দেহে ভস্ম মেখে বৃক্ষতলে ধূপ ধূনা জ্বেলে জোরেশোরে চিমটা বাজিয়ে লোক জড়ো করিনি কস্মিনকালে। মানবতাবাদী বাউলের তরিকায় নিত্যদিন দেহের বন্দনা করি; গীত রচনায় নিমজ্জিত, দোতারা ছাড়াই ঘুরি এ ভবের হাটে।... Read more
দেবার মতোন কিছু নেই – শামসুর রাহমান রাজরাজড়াকে হাসানোর ক্ষমতা আমার নেই, হীরে-জহরত ঝলসিত মহিলার কোলজোড়া জুলজুলে দৃষ্টি নিয়ে মোলায়েম থাবা নাচানোর, বারংবার গলার রঙিন ঘুন্টি দোলানোর শিল্প আমি আয়ত্তে আনিনি। বিশাল প্রাসাদে একা দিনরাত্রি অনেক বছর কাটায় যে লোক... Read more
দেখা হওয়া না-হওয়া – শামসুর রাহমান দেখা হওয়া না-হওয়ার মধ্যে কেন জয় পরাজয় সেদিন আনলে টেনে আচানক? কার জিৎ আর কার হার হলো বলে ধরে নিলে মনের গহনে? আমিতো ভাবিনি এইমতো কস্মিনকালেও, তাই দ্রুত বিস্ময়ের পাকে জড়িয়ে গেলাম; দু’টি দিন... Read more
দেখা যায় কিনা – শামসুর রাহমান কী যে হয়েছে তাঁর, ইদানীং কোনো কিছুই তেমন স্পষ্ট দেখতে পান না, না হাতের কাছের চায়ের পেয়ালা, না দূরের গাছপালা। অনেকটা আন্দাজে ঠাওর করে নেন। হাসপাতালে যাই যাই করেও যাওয়া হলো না আজ অব্দি।... Read more
