আমার মাকে – শামসুর রাহমান মাকে দেখি প্রতিদিন ধ্যানী প্রদক্ষিণে ছায়াবৃতা আপন সংসারে। তাকে চিনে নিতে পারি সহজেই যখন নিভৃত অনুভবে বারবার একটি ভাস্বর নদী, ফলের বাগান, মাঠ আর শস্যক্ষেত, দূরের পাহাড় গলে গিয়ে একই স্রোতে বয়ে যায়, সীমা মুছে... Read more
আমার ব্রত – শামসুর রাহমান তরুণ উজ্জ্বল তিনজন কবি গাঢ় সায়াহ্নকে ঝাঁঝালো দুপুর করে আমার পড়ার ঘরে এসে বলে, ‘ওরা আপনার দিকে ছুঁড়েছে বিস্তর কাদা খোলা পথে শাঁসালো মণ্ডপে; আমরা তা কিছুতেই আর মেনে নেবো না, জবাব দিতে চাই এই... Read more
আমার প্রতিদ্বন্দ্বী – শামসুর রাহমান একজন খর্বকায় মানুষ নিস্তব্ধ সন্ধ্যেবেলা পড়ছে নামাজ কী তন্ময়। মনে হয়, সে এখন অনেক অনেক দূরে শাল তাল অর্জুনের বন পেরিয়ে সমুদ্রে এক ভাসিয়েছে নিরঞ্জন ভেলা। এখন সত্তায় তার শান্ত উঠোনে শিশুর খেলা, দিগন্তের বংশীধ্বনি,... Read more
আমার নির্মাণ – শামসুর রাহমান আমার নির্মাণ আজ আমাকেই বড়ো ব্যঙ্গ করে। যা-কিছু গড়েছি এতদিন বেলা অবেলায় প্রায় প্রত্যহ নির্মম শ্রমে, সেসবই কি তবে, হায়, খড়ের কুটোর মতো পরিণামহীন জলে-ঝড়ে? আমিতো দিয়েছি ডুব বারংবার, পাতালের ঘরে দানবের মুখোমুখি নিয়ত থেকেছি... Read more
আমার নিবাস – শামসুর রাহমান কখনো গিয়েছি আগে সেখানে, মানে সে বহুদূরে মফস্বলী পুরানো মহলে? দুপুর, নিবিড় হয় চোখের পাতায় আর উদাস পুকুরে; সিঁড়িতে পা রাখতেই উষ্ণ করতলে তার হাত চলে আসে। কার? আজ ছায়াচ্ছন্ন নিস্তব্ধ দুপুরে, নিসর্গের অন্তঃপুরে গাছগাছালির... Read more
