টেলিফোন – শামসুর রাহমান প্রত্যহ সকাল সন্ধ্যা বসে থাকি তীব্র প্রতীক্ষায়, বস্তুত অপেক্ষমাণ আমার নিজস্ব গৃহকোণ সারা দিনমান, কান পেতে থাকি, হয়তো টেলিফোন এখুনি উঠবে বেজে ঘরময় কালো স্তব্ধাতায়। নিবদ্ধ আমার দৃষ্টি শাদা ধূসর খরগোশ-প্রায় যন্ত্রটির গায়ে, ওর এই অন্ধ... Read more
টাইরেসিয়াসের মতো – শামসুর রাহমান দোরগোড়ায় রোজ বসে থাকতো যে-লোকটা, আলো সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তার। কারণ, সে ছিল জন্মান্ধ। ফলত আরো অনেক কিছুর মতোই আলো নিয়ে সে কোনোদিন ওর কাঁচাপাকা চুল-ভর্তি মাথাটা ঘামায়নি। দোরগোড়ায় হামেশা বসতো লোকটা, কিন্তু... Read more
জ্যোৎস্নারাতে পাঁচজন বুড়ো – শামসুর রাহমান পাঁচজন বুড়ো জ্যোৎস্নারাতে গোল হয়ে বসে আছে একটি বিরান মাঠে বড় চুপচাপ। কখনও চাঁদের দিকে তাকায়, যে যার ভঙ্গিতে খানিক হাসে, চোখ বন্ধ করে, বিড়ি ফোঁকে কখনও-বা। ফুরোলে বিড়ির আয়ু দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়।... Read more
জ্যোৎস্নামাখা মধ্যরাতে – শামসুর রাহমান জ্যোৎস্নামাখা মধ্যরাতে নিঝুম পথে একলা আমি যাচ্ছি হেঁটে। আগে পিছে দৃষ্টি রাখি, কিন্তু কোনও আদম কোথাও দেয় না দেখা। এই যে আমি বিজন পথে বড় একা খুঁজছি ডেরা একটু শুধু ক্লান্তি-কণা মুছে নিতে কিংবা ঘুমের... Read more
জীবিতের পাথুরে স্তব্ধতা – শামসুর রাহমান সংকীর্ণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে কৃপণ আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখতে পেয়ে ঢ্যাঙা যুবক চমকে উঠলো তার অস্তিত্বের ঝাঁকুনিতে। ভীষণ কুৎসিত জন্তু এক লাফাতে লাফাতে চৌদিকে বিদ্ঘুটে গন্ধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে মিশে যায় মেঘমালায়। খানিক পরেই... Read more
