পুণ্যের হিসাব – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাধু যবে স্বর্গে গেল, চিত্রগুপ্তে ডাকি কহিলেন, “আনো মোর পুণ্যের হিসাব।” চিত্রগুপ্ত খাতাখানি সম্মুখেতে রাখি দেখিতে লাগিল তার মুখের কী ভাব। সাধু কহে চমকিয়া, “মহা ভুল এ কী! প্রথমের পাতাগুলো ভরিয়াছ আঁকে, শেষের পাতায় এ... Read more
পুঁটু – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চৈত্রের মধ্যাহ্নবেলা কাটিতে না চাহে। তৃষাতুরা বসুন্ধরা দিবসের দাহে। হেনকালে শুনিলাম বাহিরে কোথায় কে ডাকিল দূর হতে, “পুঁটুরানী, আয়।” জনশূন্য নদীতটে তপ্ত দ্বিপ্রহরে কৌতুহল জাগি উঠে স্নেহকণ্ঠস্বরে। গ্রন্থখানি বন্ধ করি উঠিলাম ধীরে, দুয়ার করিয়া ফাঁক দেখিনু... Read more
পিস্নি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিশোরগাঁয়ের পুবের পাড়ায় বাড়ি পিস্নি বুড়ি চলেছে গ্রাম ছাড়ি। একদিন তার আদর ছিল, বয়স ছিল ষোলো, স্বামী মরতেই বাড়িতে বাস অসহ্য তার হল। আর-কোনো ঠাঁই হয়তো পাবে আর-কোনো এক বাসা, মনের মধ্যে আঁকড়ে থাকে অসম্ভবের আশা।... Read more
পিছু-ডাকা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন দিনের শেষে চেয়ে দেখি সমুখপানে সূর্য ডোবার দেশে মনের মধ্যে ভাবি অস্তসাগর-তলায় গেছে নাবি অনেক সূর্য-ডোবার সঙ্গে অনেক আনাগোনা, অনেক দেখাশোনা, অনেক কীর্তি, অনেক মূর্তি, অনেক দেবালয়, শক্তিমানের অনেক পরিচয়। তাদের হারিয়ে-যাওয়ার ব্যাথায় টান লাগে... Read more
পাষাণে পাষাণে তব – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাষাণে পাষাণে তব শিখরে শিখরে লিখেছ, হে গিরিরাজ, অজানা অক্ষরে কত যুগযুগাস্তের প্রভাতে সন্ধ্যায় ধরিত্রীর ইতিবৃত্ত অনন্ত-অধ্যায়। মহান সে গ্রন্থপত্র, তারি এক দিকে কেবল একটি ছত্রে রাখিবে কি লিখে— তব শৃঙ্গশিলাতলে দুদিনের খেলা, অামাদের... Read more
